নজিরবিহীন ভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ রাজ্যপাল, এক্তিয়ার ভুলে গিয়েছেন বলে তোপ তৃণমূলের
নজিরবিহীন ভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ রাজ্যপাল, এক্তিয়ার ভুলে গিয়েছেন বলে তোপ তৃণমূলের
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। দুদিনের সফরে দিল্লি গিয়েছেন তিনি। বুধবার সকালেই একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। আর এরপরেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হল রাজ্যপাল। তাঁর এই সফর ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। অনেকেই বলছেণ, রাজ্যপাল যেভাবে এদিন মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তা কার্যত নজিরবিহীন। অতীতে কোনও রাজ্যপালের এমন কাজ করার প্রমাণ নেই বলেই জানাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজ্যবাসীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত!
বুধবার দুপুরে হঠাত করেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনার বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বাড়িতে যান রাজ্যপাল ধণখড়। জানা গিয়েছে, তিনি বিচারপতির কাছে একটি কাগজ তুলে দিয়েছেন। যেখানে রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি এক মহিলাকে নগ্নকে মারধরের যে ঘটনা সামনে এসেছে সেটাও তুলে ধরা হয়েছে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের কাছে। রাজ্যপালের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এমণকি বিরোধীদের কোনও কাজ বাংলাতে করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও এদিন অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। এই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তিনি।

এক্রিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যপাল যেভাবে এদিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন টা নিয়ে ফের একবার মুখ খুলেছে শাসকদল তৃণমূল। এদিন সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, রাজ্যপাল তাঁর এক্তিয়ার ভুলে গিয়েছেন। কোনও রাজনৈতিক দল যেতেই পারে, কিন্তু উনি বিজেপির এজেন্ট টা প্রমাণিত হল আরও একবার। পদ্মপাল বলেও ফের একবার কটাক্ষ তৃণমুলের। সুখেন্দু শেখর রায় আরও বলেন, এই রাজ্যপাল সংবিধানের শত্রু, দেশের শত্রু। এমণকি বাংলার মানুষের শত্রু বলেও এদিন তোপ দাগেন সুখেন্দুবাবু। রাষ্ট্রপতির কাছে কাছে রাজ্যপালের বরখাস্তের দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যপালের পাশে বিজেপি
সুখেন্দু শেখর রায়কে পালটা কটাক্ষ বিজেপির। রাজ্যপালের মানবাধিকার কমিশনে যাওয়া নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, হাজার কর্মী ঘর ছাড়া। ভিনরাজ্যে লুকিয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় একজন রাজ্যপাল কোথায় যাবেন আর কোথায় না সেটা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার নেই। উনি যেতেই পারেন। যখন সরকার কিছু কাজ করছে না, সেখানে উনি গিয়ে যদি বিস্তারিত জানান তাতে ক্ষতি কিছু নেই বলেই দাবি বিজেপি নেতার।

কয়লা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যপাল ধণখড়। বুধবার সকাল থেকে একের পর এক মন্ত্রকে ঘুরছেন তিনি। এর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ হল কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর সঙ্গে বৈঠক। তাঁর বাড়িতে সকালেই পৌঁছে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সকাল ৯.৪০ মিনিট থেকে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক এই বৈঠক চলে। এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাতে কয়লা কেলেঙ্কারির তদনন্ত করছে সিবিআই। তদন্তে একাধিক নাম উঠে এসেছে। এমনকি কার টাকা একাধিক তৃণমূল নেতার অ্যাকাউন্টেও গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় কয়লা মন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications