বাংলার বিধানসভা ভোটে হিংসা ও বুথ জ্যামিং রুখতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম করে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের
আসন্ন নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন (EC) পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন "ভয়, হিংসা, ভয়ভীতি এবং প্রলোভন" মুক্ত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
কমিশন বুথ দখল, বুথ জ্যামিং এবং ভোটার সংহতকরণে বাধাদানকারী "সোর্স জ্যামিং"-এর মতো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তাদের 'এক্স' হ্যান্ডেলে এই "কড়া বার্তা" শেয়ার করে জানিয়েছে: "ইসিআই-এর তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া বার্তা। এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিশ্চিতভাবে হবে: ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত, ভয়ভীতি-মুক্ত, প্রলোভন-মুক্ত এবং কোনওরকম রেইড, বুথ জ্যামিং ও সোর্স জ্যামিং ছাড়া।"

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-সম্পর্কিত হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে; গত ২০ বছরে বিভিন্ন প্রচারাভিযান ও ভোটের সময় শত শত মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আহত হয়েছেন।
বিশেষত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী। 'কল অফ জাস্টিস' নামক একটি তথ্য-অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট মতে, সেই সময়ে ১,৩০০টিরও বেশি হিংসার ঘটনা, ২৫টি প্রাণহানি এবং ৭,০০০টি শ্লীলতাহানির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তৃণমূলের শাসনকালে হিংসার মাত্রা বামফ্রন্ট আমলের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে।
গত বুধবার তৃণমূল প্রতিনিধি দল ও নির্বাচন কমিশনের বৈঠকটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন দাবি করেন, মাত্র সাত মিনিট পরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের চলে যেতে বলেন। ইসি অবশ্য ডেরেকের চিৎকার করা এবং সিইসিকে কথা বলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
ওই বৈঠকে তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কিছু চিঠি কমিশনের কাছে পেশ করে এবং বিজেপির সঙ্গে যুক্ত পোল কর্মকর্তাদের নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কমিশনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ইসি বিরোধী দল বিজেপির পক্ষে কাজ করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে।
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই SIR প্রক্রিয়ার আগে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ (৭.৬৬ কোটি); বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭,০৪,৫৯,২৮৪ (৭.০৪ কোটি), যা যাচাইয়ের অধীনস্থ নামগুলি বাদে গণনা করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ৪৮৩ জন কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে বদলি করেছে, যা অন্যান্য রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে যত সংখ্যক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি। বদলি হওয়াদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং রিটার্নিং অফিসাররা রয়েছেন।
তৃণমূল এই বদলির বিরোধিতা করে এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। তবে কমিশনের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ২০২১ সাল-পরবর্তী হিংসা এড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। এই নির্বাচন দুটি দফায় – ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল – অনুষ্ঠিত হবে এবং এর ফল প্রকাশ হবে ৪মে।
-
ভোটার তালিকা থেকে কত লক্ষ নাম বাদ দিল নির্বাচন কমিশন? কোন জেলায় প্রভাব সবচেয়ে বেশি? -
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট মোশন খারিজ সংসদে -
ফের সপ্তাহান্তেই বঙ্গে ভোটপ্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী! পরপর রোড শো, জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী -
লোকসভায় আসেননি, বিধানসভায় বাংলায় ভোট প্রচারে রাহুল গান্ধী, তারকা প্রচারকদের তালিকা প্রকাশ কংগ্রেসের, রয়েছে নানা চমক -
সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অডিও ক্লিপ শোনাল কমিশন, কড়া অবস্থান বিচারপতির -
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জয় অব্যাহত! টিম ডেভিড ঝড়ে উড়ে গেল চেন্নাই সুপার কিংস -
আমেরিকার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধ থামাতে ১০ দফা শর্ত পেশ ইরানের -
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: নতুন সমীক্ষায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত -
ফের সপ্তাহান্তেই বঙ্গে ভোটপ্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী! পরপর রোড শো, জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী -
ভোটার তালিকা থেকে কত লক্ষ নাম বাদ দিল নির্বাচন কমিশন? কোন জেলায় প্রভাব সবচেয়ে বেশি? -
কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: সমীক্ষায় ইউডিএফের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস, হারার ইঙ্গিত এলডিএফের -
লোকসভায় আসেননি, বিধানসভায় বাংলায় ভোট প্রচারে রাহুল গান্ধী, তারকা প্রচারকদের তালিকা প্রকাশ কংগ্রেসের, রয়েছে নানা চমক












Click it and Unblock the Notifications