প্রশান্ত কিশোরকে সরালে কি শেষ রক্ষা হত তৃণমূলের! শুভেন্দুর ইস্তফায় উঠছে প্রশ্ন
প্রশান্ত কিশোরকে সরালে কি শেষ রক্ষা হত তৃণমূলের! শুভেন্দুর ইস্তফায় উঠছে প্রশ্ন
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে মোক্ষম ধাক্কা খাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোরকে ভোট কৌশলীর দায়িত্বে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যে লক্ষ্যে প্রশান্ত কিশোরকে আনা, সেই একুশের বিধানসভা ভোটের আগে হঠাৎই সিঁদুরে মেঘ দেখা দিয়েছে তৃণমূলে। প্রশান্ত কিশোরই দলের ভাঙনের কারণ হয়ে উঠেছেন প্রকারান্তরে।

প্রশান্ত কিশোরই রুখে ছিলেন বিজেপির ভাঙন
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায়ের নেতৃত্বে বিজেপি ভাঙন ধরাতে লেগেছিল তৃণমূলে। প্রশান্ত কিশোরই দায়িত্বে এসে তা রুখে দেন। ফের পুরসভা পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ ফিরে আসে তৃণমূলের হাতে। ঘরওয়াপসি হয় দলত্যাগীদের। ফলত প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েই বুমেরাং হল তৃণমূলে!
কিন্তু সেই প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েই যে বুমেরাং হবে তৃণমূলে, তা ভাবেননি তিনি। ২০২১-এর ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়ছে। আর তৃণমূল নেত-বিধায়ক-মন্ত্রীরা প্রশান্ত কিশোরকেই নিশানা করছেন তৃণমূল ছাড়ার আগে। প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেই তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।

পিকের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক
সম্প্রতি মিহির গোস্বামী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপিতে গিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছেন। তিনিও বিজেপিতে যোগ দিতে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। আবার তার পথ ধরে তৃণমূল ছেড়েছেন জিতেন্দ্র প্রসাদ, শীলভদ্র দত্ত, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো বিধায়করাও। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ পিকের দিকে।

প্রশান্ত কিশোর সংগঠনে, শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধি
প্রশান্ত কিশোর সংগঠনের কাজে নাক গলানোর পর থেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব শুরু হয়েছিল তৃণমূলের। তা ক্রমশ বেড়েছে কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করেননি। শুভেন্দুকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন অনেক পরে। শুভেন্দুর সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলোচনায় বসিয়েও কোনও ফায়দা হয়নি।

পিকেকে নিয়ে আগে সিদ্ধান্ত নিলে শুভেন্দুকে আটকানো যেত!
এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রশান্ত কিশোরকে সরিয়ে দিলে কি তৃণমূলের শেষ রক্ষা হত। শুভেন্দুকে রাখা সম্ভব হয়নি। এখনও যদি প্রশান্ত কিশোরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তৃণমূলের এই ভাঙন ঠোকানো যাবে? নাকি অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে? প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে আগে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে যদি শুভেন্দুকে আটকানো যেত, তাহলে তৃণমূলের মঙ্গল হত।












Click it and Unblock the Notifications