পঞ্চায়েতের আগে কারা বিজেপির সফট-টার্গেট! মমতাকে ধাক্কা দিতে তালিকা তৈরি
যাঁরা পরিবর্তনের ধ্বজা ধরে তৃণমূলের সঙ্গে ছিলেন এতদিন, তাঁরা অনেকেই এখন ধীরে ধীরে সরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে। বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সেইসব মানুষদেরই এবার টার্গেট করেছে বিজেপি।
পৌনে সাত বছরের অনেকেরই মোহভঙ্গ হয়েছে পরিবর্তনকামী তৃণমূলের প্রতি। যাঁরা পরিবর্তনের ধ্বজা ধরে তৃণমূলের সঙ্গে ছিলেন এতদিন, তাঁরা অনেকেই এখন ধীরে ধীরে সরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে। বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সেইসব তৃণমূলপন্থী মানুষদেরই এবার টার্গেট করেছে বিজেপি। পঞ্চায়েতের আগে রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তনের আওয়াজ তুলে তাঁদের নিজেদের দিকে ভিড়াতে চাইছেন মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষরা।

তৃণমূলপন্থী এইসব বুদ্ধিজীবীদের সরাসরি পদ্মশিবিরে যোগ না করিয়ে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিজেপি। আপাতত তৃণমূল থেকে তাঁদের বিযুক্ত করাই বিজেপির প্রধান উদ্দেশ্য। সুনন্দ স্যান্যাল থেকে শুরু করে সমীর আইচ, কৌশিক সেনদের মতো অনেকেই এই মুহূর্তে তৃণমূলের সঙ্গে নেই। তাঁদেরকে যদি নিজেদের দিকে আনা যায়, তাহলে বিজেপির পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরদার করা যাবে। অন্তত কয়েকজনকেও যদি আনা যায় পঞ্চায়েতের ভোটের আগে, তাহলে তৃণমূলকে ধাক্কা দেওয়া যাবে।
তবে এ ব্যাপারে আদৌ তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না বিজেপি। বিজেপি চাইছে, ধীরে চলো নীতি নিয়ে এগোতে, তাতে যদি পঞ্চায়েতের আগে নাও হয়, লোকসভা ভোটের আগে হলেও বুদ্ধীজীবীদের সঙ্গে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলে মোহভঙ্গ হওয়া বুদ্ধিজীবীদের একটা তালিকা তৈরি করে ফেলেছে বিজেপি। আপাতত লোকসভা ভোটকে লক্ষ করেই ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি। আর সেই লক্ষ্যে বিজেপি ভরসা করছেন রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহলের উপর। বিজেপি বুঝেছে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে শিল্প-সংস্কৃতি ও ত্রীড়া জগতের ব্যক্তিদের সঙ্গে চাই।
বুদ্ধিজীবী মহলের প্রচ্ছন্ন মদত পেলে, তা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে মানুষের কাছে। তার উপর বিজেপির বুদ্ধিজীবী সেলের আহ্বায়ক সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তাঁর শূন্যস্থান ইতিমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছে বিজেপি। শিক্ষাবিদ পঙ্কজ রায়কে বিজেপির বুদ্ধিজীবী সেলের আহ্বায়ক করা হয়েছে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন আহ্বায়ক হিসেবে। তিনি এই দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহলের একটা বড় অংশ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই। তাঁদেরকে নিজেদের দিকে আনতে হবে। নতুবা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অন্তত পথে নামাতে হবে। এটাই হবে তৃণমূলকে পাল্টা ধাক্কা দেওয়া।












Click it and Unblock the Notifications