শান্তনুর সিএএ-লড়াই কোন অভিমুখে, ২০২১-এর আগে স্পষ্ট বার্তা মুকুলকে পাশে নিয়েই
শান্তনুর সিএএ-লড়াই কোন অভিমুখে, ২০২১-এর আগে স্পষ্ট বার্তা মুকুলকে পাশে নিয়েই
যাঁরা সিএএ-র (caa) বিরুদ্ধে তাঁদেরকে সমর্থনের প্রশ্নই ওঠে না। এদিন হেস্টিংসে দলের পার্টি অফিসে বসে এমনটাই মন্তব্য করলেন বনগাঁর বিজেপি (bjp) সাংসদ শান্তনু ঠাকুর (shantanu thakur)। একইসঙ্গে তিনি জানান, সিএএ কার্যকর করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে তাঁর আস্থা রয়েছে।

বেসুরো ছিলেন শান্তনু
গত বেশ কয়েকদিন ধরে সিএএ নিয়ে বেসুরো ছিলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন লোকসভা নির্বাচনের সময়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যদি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পালন না করা যায়, তাহলে মতুয়া ভোট সরে যেতে পারে। এব্যাপারে মতুয়াদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে তিনি অন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত করেছিলেন। তাঁর ক্ষোভ প্রশমনে ঠাকুরনগরে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এছাড়াও অমিত শাহ বঙ্গ সফরে এসে বলেছিলেন, আগে করোনার ভ্যাকসিন, তারপর সিএএ লাগু। যা নিয়ে শান্তনু বলেছিলেন করোনা পরিস্থিতি সিএএ লাগুতে বাধা হতে পারে না। শান্তনু ঠাকুরের অবস্থানে খুশি হয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শান্তনু ঠাকুরকে বলেছিলেন, বিজেপিতে থেকে কাজ করা যাবে না। তাই তিনি যেন তৃণমূলে যোগ দেন।

সোমবার শান্তনুকে নিয়ে বৈঠক
পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য সোমবার রাতে বাইপাসের ধারে এক পাঁচতারা হোটেলে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপি নেতারা। সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় ছাড়াও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশের মতো নেতারাও উপস্থিতি ছিলেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে শান্তনু ঠাকুরকে ডাকা হয়েছিল। বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ এবং শান্তনু ঠাকুর উভয়েই জানান, কোনও দূরত্ব নেই, ভুল বোঝাবুঝিও নেই। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্ব সিএএ নিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে নিষেধ করে।

যাঁরা সিএএ সমর্থন করেনি, তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাবেন না তিনি
এদিন হেস্টিংসে বিজেপির পার্টি অফিসে মুকুল রায়ের পাশে বসে শান্তনু ঠাকুর বলেন, যাঁরা সিএএকে সমর্থন করেনি, তাঁদের সঙ্গে কোনওভাবেই তিনি হাত মেলাবেন না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেসব সাংসদ সংসদে সিএএ-র সমর্থনে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যএ তিনিও ছিলেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব বিল এখন নাগরিকত্ব আইনে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশে মতুয়াদের নাগরিকত্ব সুরক্ষিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নাগরিকত্ব প্রদানের পর্ব বাকি আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি মেনে নেন, করোনা পরিস্থিতির কারণেই তা প্রয়োগে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এব্যাপারে আগামী মাসে ঠাকুরনগরে জনসভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনিই সরকারের পরিকল্পনা জানাবেন বলে উল্লেখ করেন শান্তনু ঠাকুর।

সিএএ লাগু হবেই
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের প্রথমে মুকুল রায় বলেন, ২০১১ সালে মতুয়াদের পিঠে চড়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তাঁদের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও কিছুর সমাধান করা হয়নি। তৃণমূলের পাশাপাশি, বাম, কংগ্রেসও মতুয়াদের সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছিলেন মুকুল রায়। তিনি এদিন আরও বলেন, দেশে কোভিড পরিস্থিতির কারণে সিএএ লাগু করতে বিলম্ব হচ্ছে। মুকুল রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই আইন লাগু করতে বদ্ধ পরিকর।












Click it and Unblock the Notifications