জানেন এই গ্রামে দোতলা বাড়ি করতে পারেন না কেউ, কেন এই রীতি জেনে নিন
বিজ্ঞান যেখানে মানুষকে তর তরিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছে সেই যুগে দাঁড়িয়েও কিন্তু বাঁকুড়ার এই গ্রামের বাসিন্দারা 'দৈব নিষেধ' মেনেই চলেছেন বছরের পর বছর। বাপ-ঠাকুরদাদের আমোলের বিশ্বাস তাঁরা অমান্য করেননি আজও।
বাঁকুড়া শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই বালিয়াড়া গ্রাম। এখনও এই গ্রামে একটিও দোতলা বাড়ি নেই। তার কারণ কিন্তু এমন নয় যে এঁদের কোনও অর্থ নেই। সচ্ছল পরিবার হলেও এই গ্রামের কেউ দোতলা বাড়ি তৈরি করতে চান না। কারণ 'দৈব নিষেধ'। কাজেই সাধ এবং সাধ্য দুই থাকলেও এই নিষেধ মেনে চলেন তাঁরা।

'দৈব নিষেধ' অমান্য করে কেউই দোতলা বাড়ি তৈরি করার দুঃসাহস দেখান না। বালিয়াড়া গ্রামের মানুষ বিশেষ এই বিশ্বাসে ভর করে একতলা বাড়ির নিচেই দিব্যি কাটিয়ে দিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু এই ধরণের অন্ধ বিশ্বাসের কারণ কি? এর কি কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে? এসব প্রশ্নের কোন উত্তরই জানা নেই গ্রামের সিংহভাগ মানুষের। তাঁরা শুধু বিশ্বাস রাখেন 'বিশ্বাস' শব্দেই। আর তাই 'বিশ্বাস'কে আশ্রয় করেই এভাবেই তাঁরা 'সুখে স্বাচ্ছন্দে' থাকতে চান বলে জানিয়েছেন।
বালিয়াড়া গ্রামের মানুষের দাবি, এই গ্রামেই রয়েছেন 'জাগ্রত মনসা বুড়ি'। তিনি চাননা গ্রামে কোন আকাশচুম্বি বাড়ি হোক। আর বংশপরম্পরায় তাঁর সেই নির্দেশ মেনে চলেছেন গ্রামের মানুষ। এর মাঝেই কেউ কেউ ব্যতিক্রমীও থাকেন। গ্রামের মানুষের 'কুসংস্কার' আর 'অন্ধবিশ্বাস' দূর করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ঐ গ্রামেরই বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক সত্যনারায়ণ পাল।

সব বাধা অতিক্রম করে গ্রামে প্রথম দোতলা বাড়ি তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এসবের মাঝেই এক দূর্ঘটনার শিকার হন তিনি, ভেঙ্গে যায় পা। দোতলা বাড়ির তৈরির স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়, মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার পর বালিয়াড়া গ্রামের মানুষের বিশ্বাস আরো জোরালো হয়।
গ্রামবাসী হেমন্ত মাঝি, ধীরেন মাঝিরা বলেন, আমরা ছোটো থেকেই দেখে আসছি গ্রামে কোন দোতলা বাড়ি নেই, তবে একমাত্র গ্রামের বাইরে হাই স্কুলে রয়েছে দোতলা বাড়ি। বাপ ঠাকুর্দার কাছ থেকে শোনা কথাতেই এখনো বিশ্বাস রেখে চলেছি। তবে একতলার পর দোতলার অংশে অ্যাসবেসটাস বা করোগেটের ছাউনীতে কোন বাধা নেই বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

তবে বাবার দেখানো পথেই বিশ্বাস রাখেন অকাল প্রয়াত শিক্ষক সত্যনারায়ণ পালের ছেলে সৌরেন পাল। তিনি বাবা নিজে একজন বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি ছিলেন। এই সব 'অন্ধ বিশ্বাসে'র বিরোধী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন গ্রামের মানুষকে কুসংস্কারমুক্ত করতে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেটাই করতে চেয়েছিলেন। যেকোন কারণেই হোক তিনি সফল হতে পারেননি বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications