আজও সমানভাবে জনপ্রিয় উত্তর কলকাতার ফাটাকেষ্টর কালীপুজো
আজও সমানভাবে জনপ্রিয় উত্তর কলকাতার ফাটাকেষ্টর কালীপুজো
দুর্গাপুজোর পরই বাঙালি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন কালীপুজোর জন্য। আর কালীপুজো বলতেই প্রথমেই মনে পড়ে উত্তর কলকাতার ফাটাকেষ্টর পুজো। মৃত্যুর দু’দশকর পরও আজও সেরকম জনপ্রিয় ফাটাকেষ্টর পুজো। এখনও সেখানে তারকা সমাবেশ হয়।

ষাটের দশকের কলকাতা মানেই মনে পড়ে যায় শহরের যেখানে সেখানে খুন খারাপি, রাহাজানি, অশান্তিকর পরিবেশের কথা। ঠিক সেই সময়ই উত্থান এই ফাটাকেষ্টর, সীতারাম ঘোষ স্ট্রীটের একটি পানের দোকানে তাঁর বেড়ে ওঠা। আসল নাম কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত, কলেজস্ট্রীটে বাবার পানের দোকানোর দেখাশোনার সঙ্গে তিনি বজায় রাখতেন তাঁর শরীরচর্চা। একটা সময় কংগ্রেসী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন ফাটাকেষ্ট, তবে পরবর্তীকালে আবার কংগ্রেস ত্যাগও করেন। এরপর হয়ে ওঠেন এলাকার সমাজসেবী ও ডাকাবুকো টাইপের মানুষ। তবে তিনি শরীরচর্চা করতেন নিত্যদিন। মানুষের পাশে দাঁড়াতে বরাবরই ভালোবাসতেন, বেশ কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাঁকে স্থানীয়রা দাদা বলে ডাকতেন। পুলিশের গুলিও খেয়েছেন নাকি। তবে এই সবকিছুর মধ্যে কালী মায়ের প্রতি ভক্তি ছিল তাঁর অপরিসীম।
একটা সময় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির কাছে গিয়ে পুজো দেখতেন এবং ভাবতেন জমিয়ে পুজো করবেন তিনি। যেমন ভাবনা তেমন কাজ, ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো শুরু করেন কালীপুজো। তখন অবশ্য এই পুজো আজকের মতো এত বিরাট হতো না। পুজোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয়দের কাছেও এলাকার দাদা হিসাবে পরিচিতি পান। ফলে পুজোও বড় হতে থাকে। সেই পুজো আজও ফাটাকেষ্টর পুজো নামে পরিচিত। তবে কী করে ব্র্যান্ড হয়ে উঠলেন এই ফাটাকেষ্ট? শোনা যায় তাঁর পুজোতে আসতেন মহানায়ক উত্তম কুমার, অমিতাভ বচ্চনও এসেছিলেন একবার এবং হিরে বসানো সোনার নাকছাবি উপহার দেন কালী মাকে। ফাটাকেষ্টর সঙ্গে এক পরিচালকের পরিচয় ছিল, তিনিই ফাটাকেষ্টকে অমিতাভের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যান। ফাটাকেষ্ট অমিতাভকে তাঁর পুজোয় আসার জন্য অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ ফেলতে পারেননি অভিনেতা। ছুটে আসেন ফাটাকেষ্টর পুজোতে। আজ সেই পুজো ৬০ বছরে পা দিল। পুজোর বর্তমান উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্যবারের মতো কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না, কারণ করোনা ভীতি। এই পুজোয় কোনও থিম বা শিল্প নৈপুণ্য থাকে না, একনও সাবেকিভাবেই পুজো করা হয়। কিন্তু ঐতিহ্যকে বজায় রেখে।












Click it and Unblock the Notifications