আদৌ কি হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর, দুবাই-এর হোটলরুম সিল করল দুবাই পুলিশ
বাথরুমের দরজা ভেঙে যখন শ্রীদেবীকে বাইরে আনা হয় তখন তাঁর জ্ঞাান ছিল না। বাথটবের উপরে পড়ে যাওয়ায় গুরুতর আঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
দুবাই-এর জুমেরাই এমিরেটস টাওয়ার হোটেলে সপরিবারে উঠেছিলেন শ্রীদেবী। আর ওই হোটেল রুমের বাথরুমে জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন। জ্ঞান হারিয়ে শ্রীদেবী বাথটবের উপরে পড়েছিলেন। যদিও, শ্রীদেবীর মৃত্যুর জন্য সার্ডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত দুবাই-এর রশিদ হাসপাতাল বা পুলিশ হৃদরোগে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বাথরুমের দরজা ভেঙে যখন শ্রীদেবীকে বাইরে আনা হয় তখন তাঁর জ্ঞাান ছিল না। বাথটবের উপরে পড়ে যাওয়ায় গুরুতর আঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু, শ্রীদেবীর মাথায় বা শরীরের কোথাও এমন কোনও ক্ষত আছে কি না তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। পরিবার থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে, দুবাই-এর রশিদ হাসপাতাল এবং পুলিশও মৃত্যুর কারণ নিয়ে মুখে রা কাড়ছে না।
শনিবার রাত ১১টার সময় হোটেলের বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছিল বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে ফিরে আসার পর অসুস্থ বোধ করছিলেন বলিউড অভিনেত্রী। রাতে স্বামী বনি কাপুর ও মেয়ে খুশি-কে নিয়ে ডিনার ডেটেও যাওয়ার কথা ছিল শ্রীদেবীর। কিন্তু, তার আগেই এই ঘটনা।

শনিবার গভীর রাত থেকে দুবাই-এর রশিদ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে শ্রীদেবীর মরদেহ। যেহেতু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে, সেই কারণে দেহ খানিক পরেই মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ময়না তদন্তের জন্য।
দুবাই-এর প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের বাইরে কারোর অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে দেহ ২৪ ঘণ্টা রাখতে হয়। শ্রীদেবীর মরদেহ অবশ্য ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রশিদ হাসপাতালে রাখা রয়েছে।
হাসাপাতালের বাইরে শ্রীদেবীর মৃত্যু হওয়ায় রবিবার ময়না তদন্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেষমেশ ভারতীয় কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে রবিবার সন্ধ্যা ছ'টা নাগাদ ময়না তদন্ত হয়। কিন্তু, এই ময়না তদন্ত ক্লিন চিট পাবে ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর। সেই ফরেনসিক রিপোর্ট এখনও হাসপাতালের কাছে এসে পৌঁছয়নি। কারণ এই ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট এই রিপোর্ট তৈরি করবে। রবিবার রাতে ফরেনসিক ল্য়াবে কিছু রিপোর্ট তৈরি করা হয়। কিন্তু, রক্তের রিপোর্ট এখনও দেওয়া হয়নি। রক্তের রিপোর্ট পেলে তবেই পুলিশ জানাবে শ্রীদেবীর মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক। দুবাই পুলিশের এই অনুমোদনের পরই হাসপাতাল থেকে শ্রীদেবীর মরদেহ ছাড়া হবে।
ইতিমধ্যে পুলিশ জুমেরাই টাওয়ার হোটেলের যে ঘরে শ্রীদেবী থাকছিলেন তা সিল করে রেড টেপ লাগিয়ে দিয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষও এই নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে, দুবাই পুলিশ সূত্রে খবর শ্রীদেবীর রক্তে আদৌ অ্যালকোহল ছিল কি না বা থাকলেও তার পরিমাণ কতটা? - তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য শ্রীদেবীর কোনও হৃদরোগ ছিল না বলেই জানিয়েছে কাপুর পরিবার। এমনকী শনিবার সন্ধ্যাতেও তাঁকে অসুস্থ বলে বোধ হয়নি।
শনিবার বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে হোটেলে ফেরার পর থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন শ্রীদেবী। বিশেষ করে শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঘটনার বেশকিছু ধাপে দুবাই পুলিশ মিসিং লিংক পাচ্ছে। এখন তারা খতিয়ে দেখতে চাইছে এই মিসিং লিংকগুলো স্বাভাবিক না এরমধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা আছে। এর জেরে হাসপাতাল থেকে শ্রীদেবীর দেহ ছাড়ায় বিলম্ব বলেই মনে করা হচ্ছে।
দুবাই-এর স্থানীয় সময় ১.৩০টার আগে কোনওভাবেই ব্লাড রিপোর্ট ক্লিয়ার হওয়া সম্ভব নয়। এরপর আরও ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে দেহ ফেরত আনার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে। তাই দুবাই পুলিশ শ্রীদেবীর দেহ ফেরতের অনুমতি অনুমোদন করলেও তা মুম্বই এসে পৌঁছতে রাত ৮টা বেজে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications