Iran-Israel: তেহরান ফাঁকা করার ডাক ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলির কাছে শর্তসাপেক্ষে সন্ধি করানোর আবেদন ইরানের
ইরান আরব-মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির কাছে ইজরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতা করিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে শত্রুতা বন্ধ করতে এবং পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইজরায়েলের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ইরান হিংসা বন্ধ করতে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে ইচ্ছুক বলে জানা গিয়েছে। ইরান আরব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইজরায়েল এবং আমেরিকা উভয়কেই বার্তা পাঠিয়েছে। এই বার্তায় সংঘাত কমানোর আবেদন করা হয়েছে এবং আরও উত্তেজনা এড়ানো উভয় পক্ষের স্বার্থের অনুকূল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান আরও জানিয়েছে যে, আমেরিকা ইজরায়েলকে সমর্থন করা সত্ত্বেও যদি সংঘাতে যোগ না দেয়, তবে তাঁরা আলোচনার টেবলে বসতে রাজি।

সামরিক সংঘাত মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে প্রবেশ করেছে। উভয়পক্ষই ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাঁর পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঙ্কট মোকাবিলার জন্য কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন একদিন আগেই ত্যাগ করে আসবেন। তিনি তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। এবং এটি যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন।
ট্রাম্পের বার্তার পরপরই ইরানের সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার সকালে তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণ ও বিমানবিধ্বংসী কামানের গোলাগুলির শব্দ শোনার খবর সামনে এসেছে। রাজধানী থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইরানের পরমাণু পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান নাতাঞ্জেও একই ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা কার্যকলাপের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইজরায়েলে মধ্যরাতের পরপরই তেল আভিভে বিমান হামলার সাইরেন শোনা যায়। এর পরেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, কারণ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের ভূখণ্ডে আঘাত হানে।
১৩ জুন ইজরায়েল 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' নামের একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে নিশানা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করার ঠিক দুই দিন আগে এই অভিযান চালানো হয়। ইজরায়েল এই হামলাকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে আটকাতে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরান অবশ্য এমন কোনও অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায় অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই সর্বশেষ ঘটনাগুলি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিটিকে বাঁচানোর জন্য নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে ঘটল। এই চুক্তিটি 'জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন' (JCPOA) নামে পরিচিত। ইরান এবং তথাকথিত ই৩ (ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি) এই চুক্তিতে সই করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত করা এবং বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকা এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। যার ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচ দিনের সংঘাতে ২২৪ জন মারা গিয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। ইজরায়েল ২৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এবং বলেছে যে ইরানের হামলার কারণে প্রায় ৩ হাজার জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, "ইরানের উচিত ছিল আমার বলা 'চুক্তি'-তে সই করা। সহজভাবে বললে, ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না। আমি এটা বারবার বলেছি! তেহরান থেকে সকলের অবিলম্বে সরে যাওয়া উচিত!"












Click it and Unblock the Notifications