সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ওষুধের মূল্য কমানো প্রয়োজন, জানাল বম্বে হাইকোর্ট
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ওষুধের মূল্য কমানো প্রয়োজন
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের দোসর হিসাবে জুড়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউর্কোমাইকোসিস। করোনার মতোই এই রোগের ওষুধ অ্যাম্ফোটেরিসিন বি–এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে একাধিক রাজ্যজুড়ে। দেশজুড়ে এই ছত্রাক সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, এরই মধ্যে বম্বে হাইকোর্ট জানিয়েছে যে মিউর্কোমাইকোসিস রোগে ব্যবহৃত ওষুধের দাম কম করতে হবে। এছাড়াও, এটি সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের উৎপাদন এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করতেও বলেছে।

বিচারপতি অনিল বি শুক্রে ও অবিনাশ বি ঘারোটের নাগপুর বেঞ্চ জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল মূল্য কর্তৃপক্ষক (এনপিপিএ) ও ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়াকে এই ওষুধের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মিউর্কোমাইকোসিস কেসের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যে ওষুধ বিতরণ নিয়ে জরুরি নির্দেশিকা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্র সরকার ১৮ মে একটি রেজোলিউশনের কপি জমা দিয়েছে যেখানে নির্দেশ রয়েছে যে মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে জন আরোগ্য প্রকল্পের সুবিধা পাবেন মিউর্কোমাইকোসিস রোগীরা।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসার জন্য প্রচলিত বর্তমান এসওপিও আদালতে পেশ করা হয়েছিল। এসওপি পেশ করার পরে বেঞ্চ বলেছিল, 'তবে, কিছু ওষুধ অত্যন্ত বিষাক্ত এবং কিডনির মতো অঙ্গগুলিকে প্রভাবিত করে এই বিষয়টি বিবেচনা করে, সরকারের উচিৎ প্রয়োজনীয় এই ওষুধগুলির ব্যবস্থাপত্র ও ব্যবহারের জন্য একটি বিস্তৃত এসওপি জারি করা। আমরা কেন্দ্রের এসওপিকে সামনে রেখে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেব।’
আদালতকে এও জানানো হয় যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মূল্য বেশ দামি এবং এই ওষুধের পরিমাণ এবং ডোজ খুব বেশি। আদালত উল্লেখ করেছে যে এ জাতীয় পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই রোগের চিকিৎসা বেশ কয়েকটি রোগীর নাগালের বাইরে থাকতে পারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কেসের বৃদ্ধি দেখে বেঞ্চ জানিয়েছে যে, 'এই পরিস্থিতিতে এটা খুবই জরুরি যে সরকার কিছু পদক্ষেপ করুক যাতে এই রোগের ওষুধের দাম কমতে পারে এবং তা সাধ্যের মধ্যে চলে আসে।’
প্রসঙ্গত, দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কেস ও ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশে। যার মধ্যে মহারাষ্ট্রে একাই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ৯০ জন মারা গিয়েছে। একদিন আগেই রাজস্থান ও গুজরাত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণকে মহামারি ব্যাধির আওতায় ফেলেছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও তেলঙ্গানা ও এই সংক্রমণকে মহামারি রোগ আইনের আওতায় 'উল্লেখযোগ্য রোগ’ বলে ঘোষণা করেছে এবং প্রত্যেক মিউর্কোমাইকোসিস কেস ও এই সংক্রান্ত মৃত্যুর বিষয়ে রাজ্য সরকারকে অবহিত করতে হবে। দিল্লি, তেলঙ্গানা, ওড়িশা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, গুজরাত, কর্নাটক ও কেরল কমপক্ষে এই দশটি রাজ্য জানিয়েছে যে হয় তাদের কাছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ শেষ হয়ে গিয়েছে অথবা দ্রুত মজুত হ্রাস পাচ্ছে। অনেক রাজ্যই আবার জানিয়েছে যে বেসরকারি ফার্মেসিতেও এই ওষুধের মজুত নেই।












Click it and Unblock the Notifications