বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে দাঁড়িয়ে মোদীর কড়া বার্তা, কী বললেন পিএনবিকাণ্ডে
বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের আর্থিক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কার্পণ্য রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই টেনে আনেন সাম্প্রতিক ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির কথা।
পিএনবি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরাসরি না হলেও ১১,৪০০ কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার দিল্লিতে গ্লোবাল বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সাধারণ মানুষের অর্থ নছয় করে তাঁদের ছেড়ে কথা বলা হবে না।

গ্লোবাল বিজনেস সামিটের এবার চতুর্থ বর্ষ। আর সেই উপলক্ষ্যে এখন ভিভিআইপি-দের ভিড়ে দিল্লি। এই সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে। তিনি তাঁদের রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসারকে প্রোমোট করতে এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বহু উদ্যোগপতি এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনের স্পিকার তালিকায় আছেন ভারতের নীতি-আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্ত থেকে শুরু করে ভারতীয় বিনোদন শিল্পের অন্যতম উদ্যোগপতি একতা কাপুর, শাহরুখ খানরাও।
এহেন এক বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের আর্থিক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কার্পণ্য রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। ভারত যে আর 'ফাইভ ফ্যাজাইল কান্ট্রি'-র তালিকায় পড়ে না সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই সঙ্গে জানান, এখন বিশ্ব ভারতের ফাইভ ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক বুনিয়াদ নিয়ে কথা বলছে।

এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই টেনে আনেন সাম্প্রতিক ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির কথা। জানান, অর্থনৈতিক বিষয়ের যে কোনও অনিয়মের সঙ্গে যাঁরা জডিত তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার এবং আগামী দিনেও এই অবস্থান বজায় রাখা হবে। সাধারণ মানুষের অর্থ আত্নসাৎ-এর প্রচেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনের এই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন সম্প্রতি বিশ্বব্যাঙ্কের প্রকাশ করা তথ্য। ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ক কী বলছে তাও একবার বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, 'বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য বলছে ২০১৩ সালেও ভারত বিশ্বের আর্থিক বৃদ্ধিতে ২.৪ শতাংশ অবদান রাখত। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩.১ শতাংশ। আর এই বৃদ্ধিটা হয়েছে এনডিএ-এর বিগত ৪ বছরের রাজত্বে। মাক্রো-ইরোনমির বিভিন্ন প্যারামিটারেও ভারতের অগ্রগতি ধরা পড়ছে। এমনকী, মুদ্রাস্ফীতিতে হ্রাস টানা থেকে শুরু করে আর্থিক ঘাটতি কমা, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিটে নিয়ন্ত্রণ আনা এবং জিডিপি-র উন্নতি, সুদের হারে পরিবর্তন, বিদেশী বিনিয়োগের দরজার আগল খুলে দেওয়া- সবই হয়েছে এনডিএ-এর বিগত চার বছের জামানায়।'
গত তিন বছরের ভারতের বিনিয়োগের বাজার এক নতুন জিনিস রপ্ত করেছে। আর তা হল কমপিটিটিভনেস। আজ সারা বিশ্ব বিনিয়োগে ভারতের এই কমিটিটিভনেস মনোভাবকে কুর্ণিশও করছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications