ভারতের মৃত্যুহার হ্রাস কি সত্যিই আশাব্যঞ্জক? নাকি সবটাই পরিসংখ্যানের মরীচিকা?
ভারতে করোনায় মৃত্যুহার হ্রাস আসলে পরিসংখ্যানের মরীচিকা, বলছে গবেষণা
দৈনিক সংক্রমণের নিত্যনতুন রেকর্ডের পিছনে ভারতের বিশালাকার জনসংখ্যার দিকেই বারবার ইঙ্গিত করেছেন একাটা বড় অংশের বিশেষজ্ঞেরা। পাশাপাশি স্বল্প মৃত্যহারকে সামনে রেখে ভারত বরাবরই অন্যান্য দেশের তুলনায় নিজের দ্রুতহারে 'সুস্থ’ হয়ে ওঠার কথাই জাহির করে এসেছে। এদিকে বয়সানুপাতে মৃত্যুহারের নিরিখে ভারতবাসীদেরল জন্য চরম আশঙ্কার কথা শোনাল সদ্য প্রকাশিত একটি রিপোর্ট।

ভারতের মৃত্যুহার কি সত্যিই আশাব্যঞ্জক ?
বর্তমানে দৈনিক সংক্রমণের নিরিখেও গত ২৪ ঘণ্টায় নয়া রেকর্ড করেছে ভারত। দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ছুঁইছুঁই। মারা গেছেন ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। এমতাবস্থায় ইউএস ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনু ফিলিপ দ্বারা একটি গবেষণা পত্রে বয়সের বিচারে মৃত্যুহারের নিরিখে ভারতের জন্য আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে।

১৪টি দেশের করোনা পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে গবেষণা
১৪টি দেশের করোনা পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩৪ লক্ষ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুহার ঘোরাফেরা করছে ১.৭ শতাংশের আশেপাশে। কিন্তু এই হিসেব তরুণ ও বয়ষ্ক দুই বয়সের করোনা আক্রান্তের মিলিত পরিসংখ্যান। আর এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন গবেষকেরা।

ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে মৃত্যুহার যাচাই করলে কেমন হতো সামগ্রিক চিত্র ?
গবেষকদের মতে গড় বয়সের নিরিখে মৃত্যুহার যাচাই করলে দেখা যাবে অনেক ইউরোপীয়ান দেশকেই পিছনে ফেলছে ভারত। সহজ হিসাবে বলতে গেলে ইতালির মতো একাধিক ইউরোপীয় দেশ মানুষের গড় বয়স যেখানের পঞ্চাশের বেশি। সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই কম। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে করোনা সংক্রমণের অল্প বয়সীদের মৃত্যুহারই সবথেকে কম। তাই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও ভারতে মৃতের সংখ্যা সেই হারে বাড়েনি।

কোন ক্ষেত্রে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা ?
এদিকে বর্তমানে মোট প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ কোটি মানুষের বয়সই ৩০ বছরের নীচে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা ভারতের এই বিশাল পরিমাণ যুবসমাজের মৃত্যুহারের সঙ্গে বয়ষ্কদের মৃত্যুহার মিলিয়ে ফেলাতেও আসল গোলকধাঁধার তৈরি হচ্ছে। সেটা সরিয়ে ফেলে বয়সের অনুপাতে মৃতের সংখ্যার তারতম্য ও কোমরবিডিটির নিরিখে মৃত্যুহার যাচাই করলে অনেকটাই ভয়াবহ চিত্র উঠে আসবে। সহজ কথায় ভারতের এই বড় অংশের তরুণ সমাজ যদি না থাকতো তবে মৃত্যুর এতদিন কয়েক লক্ষের সীমা ছাড়িয়ে য়েত বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।












Click it and Unblock the Notifications