জেলেই থেকেই মরব, কিন্তু হাসাপাতাল যাব না! এলগার পরিষদ মামলায় আর্তি অশীতিপর স্ট্যান স্বামীর
জেলেই থেকেই মরব, কিন্তু হাসাপাতাল যাব না! এলগার পরিষদ মামলায় আর্তি অশীতিপর স্ট্যান স্বামীর
কখনও মাওবাদী যোগের অভিযোগ, আবার কখনও দেশদ্রোহীতার অভিযোগে জেলবন্দি। স্বাধীন ভারতে এ যেন রোজকার ঘটনা। এদিকে মহারাষ্ট্রে চলতি বছরে ভীমা-কোরেগাঁওয়ে দলিতদের বিজয় দিবস উৎসবে হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে দলিতদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় এ কজন নিহত হন। জখম হন অনেকে। সেই সংঘর্ষের তদন্তে নেমে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেরা করার সময়েই উঠে এসেছে অশীতিপর সমাজকর্মী ফাদার স্ট্যান স্বামীর নাম। তারপর থেকেই তার দিন কাটছে জেলের অন্দরেই।

৭ মাস ধরে জেলবন্দি
এদিকে বর্তমানে গত প্রায় ৭ মাস ধরে মুম্বইয়ের তালোজা জেলে বন্দি ৮৩ বছরের জেসুট যাজক তথা এই আদিবাসী অধিকার রক্ষাকর্মী। কিন্তু দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার জেরে গত কয়েকদিনে তাঁর ব্যাপক শারীরিক অবস্থার অবনিত হয় বলে জানা যায়। তারপরেই তাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু তাতেই বেঁকে বসেছেন এই বরিষ্ঠ সমাজকর্মী। এদিকে একই মামলায় ওই জেলে বন্দি ছিলেন তেলুগু কবি, ৮১ বছর বয়সি ভারাভারা রাও। সম্প্রতি তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে বোম্বে হাইকোর্ট।

১৯ মে ফের জামিনের আবেদন
সূত্রের খবর, গত ১৯ মে ফের জামিনের আবেদন করেন এই সমাজকর্মী। সেই শুনানিতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁকে দিল্লির স্যার জে জে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারক এস জে কাঠওয়ালা এবং এসপি তাভাদে। কিন্তু স্ট্যান স্বামীর দাবি তিনি খেতে পারছেন, হাঁটতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন। কিন্তু জেলের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হোক তাও শ্রেয়। কিন্তু তাঁকে যেন হাসপাতালে পাঠানো না হয়। বদলে তাঁকে রাঁচি পাঠানোর আবেদন করেন বিচারকদের কাছে।

গত বছরের অক্টোবরে প্রথম গ্রেফতারি
গত বছরের ৮ অক্টোবর রাঁচি থেকে স্ট্যানকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। যদিও এর আগে আদালতে একাধিকবার জামিনের আবেদনও জানান তিনি। এমনকী তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৩ অক্টোবর প্রথমবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় বিশেষ এনআইএ আদালত। পরবর্তীতে গত নভেম্বরেও এক বার জামিনের আবেদন করেছিলেন স্ট্যান। তখনও খারিজ হয়ে যায় সেই আবেদন। এদিকে আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে চার্জশিট পেশ করেছে, তাতে স্ট্যান স্বামীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সিপিআই সংগঠনের (মাওবাদী) সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

জামিনের আবেদনে কী বলেছিলেন স্ট্যান স্বামী ?
যদিও জামিনের ৩১ পাতার আবেদনে স্ট্যান স্বামীর বক্তব্য ছিল, জাতপাত সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর লেখালেখি এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নাশকতার কোনো প্রমাণই নেই। পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে জামিনের আবেদন করা হলে স্ট্যান স্বামীর জামিনের আবেদন আবারও খারিজ করে এএনআই-র বিশেষ আদালত।












Click it and Unblock the Notifications