চিনুন অরুণা শানবাগকে, যার ৪২ বছরের লড়াইকে স্বেচ্ছামৃত্যুর রায়ে স্বীকৃতি দিল সুপ্রিমকোর্ট

৪২ বছর কোমায় থেকে মারা যান অরুণা। তার আগের কাহিনিও আরও ভয়ানক। একনজরে জেনে নেওয়া যাক সেই ঘটনা। এই অরুণার ঘটনাই সুপ্রিম কোর্টকে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহায্য করেছে।

অরুণা রামচন্দ্র শানবাগ। মুম্বইয়ের বছর ২৫-এর এক অবিবাহিতা মহিলা। নার্সের চাকরি করতে ট্রেনিংয়ের জন্য করতে গিয়েছিলেন কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালে। সালটা ১৯৭৩। ২৭ নভেম্বরের পর থেকে আর কিছু মনে ছিল না তাঁর। জীবনটা থমকে গিয়েছিল। তবে মৃত্যু হয়নি। দীর্ঘ একটানা ৪২ বছর অসাড় শরীরকে বয়ে বেড়িয়ে অবশেষে ২০১৫ সালের ১৫ মে থমকে গিয়েছিল অরুণার লড়াই। এতবছর কোমায় থেকে লড়াই করেছিলেন অরুণা। তার আগের কাহিনিও আরও ভয়ানক। একনজরে জেনে নেওয়া যাক সেই ঘটনা। এই অরুণার ঘটনাই সুপ্রিম কোর্টকে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহায্য করেছে।

অরুণার উপরে নির্যাতন

অরুণার উপরে নির্যাতন

১৯৭৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে হাসপাতালে ট্রেনিং শেষ করে অরুণা পোশাক বদলাতে ঘরে ঢুকেছিলেন। সেইসময় হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় সোহনলাল বাল্মিকী অরুণার উপরে চড়াও হয়। কুকুর বাঁধার চেন অরুণার গলায় পেঁচিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

নির্মম অত্যাচার

নির্মম অত্যাচার

অরুণার সেইসময়ে ঋতুস্রাব হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি ছাড় পাননি। সোহনলাল তা দেখার পরও ঝাঁপিয়ে পড়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে অরুণাকে। ঘটনার ১১ ঘণ্টা পরে মাটিতে সংজ্ঞাহীন অরুণাকে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে অরুণার সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল।

১১ ঘণ্টায় সব শেষ

১১ ঘণ্টায় সব শেষ

চেন বাঁধা অরুণা এতক্ষণ পড়ে থাকায় তার শরীরে সঠিকভাবে অক্সিজেন পৌঁছয়নি। মস্তিষ্ক অক্সিজেন না পৌঁছনোয় কোমায় চলে যান অরুণা। তার পর থেকে দীর্ঘ ৪২ বছর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কোমায় থেকেই অচৈতন্য অবস্থায় তিনি মারা যান।

উন্মাদ হয়ে কোমায়

উন্মাদ হয়ে কোমায়

চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, অরুণার ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। দৃষ্টি ও বাক্শক্তি চলে গিয়েছিল। প্রথম প্রথম তাকে উন্মাদ মতে হতো। এভাবে কিছুদিন চলার পরে তিনি কোমায় চলে যান।

আদালতে নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন

আদালতে নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন

২০০৯ সালে অরুণার নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তাঁর বন্ধু পিঙ্কি ভিরানি। আদালত সেই আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্ট তখন হাসপাতাল ও মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে অরুণার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট চায়। ২০১১ সালে কোর্টের নির্দেশে একটি তিন সদস্যের মেডিক্যাল প্যানেল গঠিত হয়।

নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন নাকচ

নিষ্কৃতি মৃত্যুর আবেদন নাকচ

আদালত জানিয়ে দেয় পরোক্ষে নিষ্কৃতি মৃত্যু বা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি আদালত দিতে পারে তবে তার সিদ্ধান্ত আত্মীয়দের নিতে হবে। পাশাপাশি আদালত মুম্বইয়ের হাসপাতালের রোগী ও নার্সদের মতামতও জানতে চায়। তাঁরা কেউ তাতে রাজি হননি। ফলে আদালত স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নাকচ করে দেয়।

অবশেষে মৃত্যু

অবশেষে মৃত্যু

২০১১ সালে আদালত মৃত্যুর দাবি নাকচ করায় আরও চার বছর কোমায় কষ্ট সহ্য করে অরুণা শেষপর্যন্ত ২০১৫ সালের ১৮ মে মারা যান। জীবনের শেষ সপ্তাহে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অরুণা। সেটাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, নিষ্কৃতি মৃত্যু নয়। এতদিন পরে আদালত সেই লড়াইকেই যেন স্বীকৃতি দিল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+