দৌড়ে এগিয়ে 'অভিজ্ঞ' দেশ, আইপিএল আয়োজনে দুই পথ বিসিসিআইয়ের সামনে
চলতি বছর স্থগিত থাকা আইপিএলের এখনও ম্যাচ বাকি ৩১টি। কোথায় সেগুলি কবে হবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা। বড় চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডার। এই পরিস্থিতিতে দুটি পথ খোলা বিসিসিআইয়ের সামনে।

ইংল্যান্ডেই আইপিএল?
গতকাল রাতেই খবর আসে, করোনার কারণে স্থগিত আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি ইংল্যান্ডেই আয়োজন করতে মরিয়া বিসিসিআই। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাউন্টি আইপিএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। কেভিড পিটারসেনও বলেছিলেন, আইপিএল হোক ইংল্যান্ডেই। সেই লক্ষ্যেই বিসিসিআই নাকি ইসিবি-কে অনুরোধ করেছে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ এক সপ্তাহ এগিয়ে আনার। তাতে সেপ্টেম্বরে অনেকটা সময় পাওয়া যাবে আইপিএল সম্পূর্ণ করার। এমনিতে ১৮ জুন থেকে সাউদাম্পটনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। ৪ অগাস্ট থেকে ট্রেন্টব্রিজে ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। ১২ অগাস্ট থেকে দ্বিতীয় টেস্ট লর্ডসে। ২৫ অগাস্ট থেকে হেডিংলিতে তৃতীয় টেস্ট। ২ সেপ্টেম্বর থেকে লন্ডনের ওভালে চতুর্থ টেস্ট। ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শেষ টেস্ট শুরু ১০ সেপ্টেম্বর থেকে। এক সপ্তাহ এগিয়ে আনা হলে যদি শেষ টেস্ট ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয় তাহলে আইপিএলের ৩১টি ম্যাচ তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ করে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছে বিসিসিআই।

ইসিবি-র অস্বীকার
ইসিবি-র তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, সরকারিভাবে এমন প্রস্তাব আসেনি। ইসিবি-র এক কর্তা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে সিরিজ আয়োজন নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা সব সময়ই চলছে। তবে টেস্ট সিরিজের দিন বদলের কোনও পরিবর্তন পাইনি। নির্ধারিত দিনেই খেলাগুলি হবে সেটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি চলছে।

ইংল্যান্ডে সমস্যা
ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের দিনক্ষণে রদবদলে বেশ কিছু সমস্যাও রয়েছে। যে মাঠগুলিতে টেস্ট সিরিজ হবে সেখানে ২১ জুলাই থেকে ২১ অগাস্ট অবধি চলবে দ্য হান্ড্রেড। একশো বলের সেই টুর্নামেন্টের ক্রীড়াসূচিতেও সেক্ষেত্রেও রদবদল করতে হবে। হোটেল বুকিং, জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি, সম্প্রচারে রদবদল, টিকিং বুকিং (ইতিমধ্যেই সিংহভাগ টিকিট বিক্রি) সব নিয়েই সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও হান্ড্রেড খেলবেন। হান্ড্রেডের এলিমিনেটর ও ফাইনালেও তাঁরা যাতে খেলতে পারেন সেইমতো ক্রীড়াসূচি তৈরি হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝে। টেস্ট ম্যাচের টিকিটও বিক্রি হয়ে গিয়েছে, কিছু পড়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে বিসিসিআইয়ের এই অনুরোধ ইসিবি-কে রাখতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।

বিসিসিআইয়ের দুই পথ
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যেই আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলি সেরে ফেলতে দুটি খসড়া ক্রীড়াসূচি ইতিমধ্যেই তৈরি রেখেছেন বিসিসিআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন সিইও তথা আইপিএলের সিওও হেমাঙ্গ আমিন। ইংল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই দুটি দেশের মধ্যে একটিতে হতে পারে। তবে এগিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। কেন না, সেখানে গত বছর সফলভাবেই জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করে আইপিএল হয়েছে। হোটেল থেকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পক্ষেই মত দিয়েছেন।

প্লাস-মাইনাস
যে সময় আইপিএল হবে বলে ধরা হচ্ছে সেই সময় ইংল্যান্ডে বর্ষা থাকে। ফলে অনেক ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। পাশাপাশি ইংল্যান্ডে পাউন্ডে সব খরচ করতে হবে। এতে বিসিসিআইয়ের ঘাড়ে আর্থিক বোঝা বাড়বে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আইপিএল হলে খরচ যেমন বাড়বে না, তেমনই সেখানে দর্শকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এখনও সেখানে দর্শকবিহীন মাঠেই খেলা হচ্ছে। ইংল্যান্ডে হলে আবার দর্শক মাঠে আসতে পারবেন। ফলে সেই গেট-মানি আবার কিছুটা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়েও দিতে পারবে। আবু ধাবি, দুবাই ও শারজায় আইপিএলের বাকি ম্যাচ আয়োজনের জন্য এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড যে সহযোগিতায় প্রস্তুত তা জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআইকে। সবদিক খতিয়ে দেখে তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিসিসিআইকেই। এ বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত মিলতে পারে ২৯ মে বিসিসিআইয়ের স্পেশ্যাল জেনারেল মিটিংয়েও।
(ছবি- বিসিসিআই/আইপিএল)












Click it and Unblock the Notifications