চিকিৎসা গাফিলতিতে বেসরকারি হাসপাতালের ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা
চিকিৎসা গাফিলতিতে বেসরকারি হাসপাতালের ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা
চিকিৎসার গাফিলতিতে ইছাপুর যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারি হাসপাতালকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করল রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন। এক সপ্তাহের মধ্যে এই পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি, এই মামলার অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য কমিশনের বিচারপতি অসীম কুমার বন্দোপাধ্যায়।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ছুটতে হয়েছিল ইছাপুরের যুবক শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল তার পরিবারকে। শেষ মুহূর্তে এসএসকেএম-এ ভর্তি হয়েও রেহাই মেলেনি মৃত্যু হয় শুভজিৎ এর। ঘটনায় কাঠগড়ায় ওঠে ব্যারাকপুরের বেসরকারি হাসপাতাল মিডল্যান্ড।
পরে শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল স্বাস্থ্য কমিশনে। সেই মামলার প্রথম শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। সেই মামলার শুনানিতে বিচারক অসীম কুমার বন্দোপাধ্যায় অভিযুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল বেলঘরিয়ার মিডল্যান্ড নার্সিংহোমের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন। তিনি এদিন শুভ্রজিতের মৃত্যুর ঘটনার ৬১ দিনের মাথায় অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন মৃত শুভ্রজিতের অভিভাবকরা।
শুভ্রজিতের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ন চট্টপাধ্যায়। মিডল্যান্ড নার্সিং হোমের পক্ষেও একজন আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। উভয়ের উপস্থিতিতে যে শুনানি চলে সেখানে শুভ্রজিতের মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি নিজের চোখের সামনে দেখা ছেলের মৃত্যুর ঘটনা বিচারকের সামনে তুলে ধরেন। তার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ স্বাস্থ্য কমিশনের।
শুভ্রজিতের মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় জানান, হাতে লেখা একটি চিরকুট আমার ছেলেকে শেষ করে দিল। আমার ছেলের শরীরে জ্বর ছিল না। কামারহাটি ই এস আই হাসপাতালে থার্মাল স্ক্রিনিং হয়ে ছিল, তাতে আমার ছেলের অতিরিক্ত তাপমাত্রা ধরা পড়েনি। কিন্তু ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ মিনিটে কি পরীক্ষা করল বুঝিনি, করোনা বলে রিপোর্ট দিয়েছিল। তারপর তো মরেই গেল আমার একমাত্র সন্তান। এখন সারা ঘর ওর স্মৃতি আঁকরে বেঁচে আছি। রাতে এখন আর ঘুম আসে না। ন্যায্য বিচারের আশায় বসে আছি।












Click it and Unblock the Notifications