বিজেপির ভরাডুবির নেপথ্যে কী কারণ, কর্নাটকের মতো হবে না সুকান্ত-শুভেন্দুদের হাল
কর্নাটকে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। এই ভরাডুবির পিছনে যে সমস্ত কারণ উঠে এসেছে, সেসব নিয়ে ভুক্তভোগী বঙ্গ বিজেপিও। তাহলে কি বঙ্গ বিজেপির কোনো আশা নেই ভবিষ্যতে? একুশে আশা জাগিয়েও মুখ থুবড়ে পড়েছিল তারা, তবে কি ২০২৪-এও বিজেপি ধাক্কা খাবে বাংলায়! প্রশ্ন জাগছে রাজনৈতিক মহলে।
কর্নাটক নির্বাচনে হারের জন্য বিশেষজ্ঞরা মূলত ৫টি কারণ দর্শাচ্ছেন। সেই পাঁচটি কারণই বাংলার নেতৃত্বের জন্যও চিন্তার! এই পাঁচ কারণেই বঙ্গ বিজেপি বুমেরাং হতে পারে আসন্ন নির্বাচনে। এই জন্যই একুশে ২০০ পার হয়নি, আর ২৪-শেও ৩৫-এর টার্গেটে মুখ পুড়বে বিজেপির।

লোকসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির চিন্তার কারণ হয়ে দলের মুখ হয়ে ওঠার মতো নেতৃত্ব। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো মুখ কোথায়। কর্নাটকে যেমন ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে নেওয়ার পরে কোনো মুখ ছিল না, তেমনই এ রাজ্যেও মুখহীন বিজেপি।
কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে বাসবরাজ বোম্মাইকে মুখ করা হয়েছিল। কিন্তু একুশের নির্বাচনে বাংলায় কাউকেই মুখ করতে পারেনি বিজেপি। দিলীপ ঘোষকে বঙ্গের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে সুকান্ত মজুমদারকে আনা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে এলেও তাঁরা বিজেপির মুখ হয়ে উঠতে পারবেন কি না, তার প্রমাণ এখনো মেলেনি।

বঙ্গের বিজেপিও এ ব্যাপারে কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা বলবে, সেটাই করতে হবে তাদের। যেমন কর্নাটকে পুরোপুরি মোদী নির্ভর প্রচার হয়েছে, তেমনই বাংলার প্রচারও মোদী-নির্ভর। বাংলাতেও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রধান ভূমিকা অমিত শাহ, কিছুটা জেপি নাড্ডার। ফলে খেসারত দিতে হতে পারে বঙ্গ বিজেপিকেও।
কর্নাটকের মতোই বাংলায় গুরুত্ব পান না অনেক নেতা। সেইসব গুরুত্ব না পাওয়া নেতারা কতটা সক্রিয় হবেন আসন্ন নির্বাচনে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। সবথেকে বড়ো কথা হল, রাজ্যে বিজেপির উত্থানের পিছনে অবদান ছিল দিলীপ ঘোষের। তিনি বর্তমানে বঙ্গ বিজেপিতে ব্রাত্য। তিনি রয়েছেন সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হিসেবে এক গুরুত্বহীন পদে।
তারপর কর্নাটকে যেমন লিঙ্গায়েত ভোট হারিয়েছে বিজেপি, ভোক্কালিগা ভোটেও সেভাবে থাবা বসাতে পারেনি। তেমনই বাংলাতেও তারা দলিত, আদিবাসী থেকে শুরু করে মতুয়া বা রাজবংশীদের ভোটে কতটা দখল রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। এইসব সম্প্রদায়ের ভোট যদি সরে যায়, বিজেপির পক্ষে ভালো ফল করা দুঃসাধ্য হবে।

তারপর বিজেপির হিন্দুত্বের স্লোগানে ভোট বাংলায় কতটা কাজ করবে, সেটাও সংশয় থাকছে। আগেও দখা গিয়েছে বিজেপির হিন্দুত্বের স্লোগান মাঠে মারা গিয়েছে। জয় শ্রীরাম স্লোগান তুলেও কোনো লাভ হয়নি। কর্নাটকেও এবার হিন্দুত্বের প্রচারে ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। এই যদি অবস্থা হয় বাংলায় এই স্লোগান যে ধোপে টিকবে না তা বলাই বাহুল্য।
বিজেপি অবশ্য এই পাঁচ ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁদের বিশ্বাস, তৃণমূল শেষ হবে দুর্নীতিতেই। তৃণমূলের পরাজয় আটকাতে পারবে না কেউ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা যদি হয়, সেটা হবে তৃণমূলের পরাজয়। বিজেপির জয় হবে কি না, তা বলা যাবে না। তখন অন্য কোনো বিরোধী শক্তিরও উত্থান হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications