Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

১৮ মাস বেতন নেই! চন্দ্রযান ৩ তৈরিতে সাহায্যকারী প্রযুক্তিকর্মী এখন ইডলি বিক্রি করছেন

চন্দ্রযান ৩-এর লঞ্চপ্যাড তৈরিতে তিনি সাহায্য করেছিলেন। এহেন প্রযুক্তিকর্মীরা ১৮ মাস বেতন পাননি। বেতন না পেয়ে সংসার সামলাতে এমনই এক প্রযুক্তিকর্মী রাস্তায় এখন ইডলি বিক্রি করতে নেমেছেন। ইসরোয় লঞ্চপ্যাড তৈরিতে কাজ করা কর্মীর এহেন দুর্দশার কাহিনি বড়োই করুণ।

এইচইসির প্রায় ২৮০০ কর্মচারী দাবি করেছেন, তাঁরা গত ১৮ মাস ধরে তাদের বেতন পাননি। দীপককুমার উপরারিয়া হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেডের একজন প্রযুক্তিবিদ। তিনি ইসরোর -এর চন্দ্রযান-৩ লঞ্চপ্যাড তৈরির জন্য কাজ করেছিলেন।

Chandrayan 3

এখন তিনি রাঁচিতে রাস্তার ধারের একটি স্টলে ইডলি বিক্রি করছেন। রাঁচির ধুরওয়া এলাকায় পুরাতন বিধানসভার বিপরীতে উপরিয়ার একটি দোকান রয়েছে। তিনি তার রাস্তার পাশের স্টলটি ফের খুলেছেন। যখন ভারত সরকারের কোম্পানি এইচইসি চন্দ্রযান ৩-এর জন্য প্ল্যাটফর্ম এবং স্লাইডিং দরজা তৈরি করেছিল, তখন তিনি কাজ করেছিলেন।

কিন্তু তিনি ১৮ মাস ধরে বেতন পাননি। তাই তিনি ফিয়ে গিয়েছেন পুরনো ব্যবসায়। এখন তিনি ইডলি বেচেন। চন্দ্রযান-৩ গত আগস্ট মাসে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছে। ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরো বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এমনকী চন্দ্রযান মিশনের লঞ্চপ্যাড কর্মীদের উদ্দেশেও ভাষণ দিয়েছিলেন। তারপরও কর্মীরা বেতন পাননি। রাঁচিতে এইচইসি-র কর্মীরা তাঁদের ১৮ মাসের বেতন বকেয়া নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন।

উপরারিয়া বলেন, তিনি শেষ কয়েক দিন ধরে ইডলি বিক্রি করছেন খিদে মেটাতে। তিনি তাঁর দোকান এবং অফিসের কাজ একসাথে সামলাচ্ছেন। টেকনিশিয়ান সকালে ইডলি বিক্রি করেন এবং বিকেলে অফিসে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আগে আবার ইডলি বিক্রি করেন।

নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে উপরারিয়া বলেন, "প্রথমে আমি একটি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আমার বাড়ির খরচ চালানোর চেষ্টা করেছি। আমি ২ লাখ ঋণ পেয়েছি। তারপর আমাকে খেলাপি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরে আমি আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ির খরচ চালাতে শুরু করি।"

তিনি আরও বলেন, "এখন পর্যন্ত আমি চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। কাউকে টাকা ফেরত না দেওয়ায় এখন মানুষ ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর আমি আমার স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে কয়েকদিন খরচ চালাই।" টেকনিশিয়ান এখন ইডলি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।

যখন তিনি অনুভব করেন তার অনাহারে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই, তখনই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি বলেন, "আমার স্ত্রী ভালো ইডলি বানায়। সেগুলো বিক্রি করে আমি প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাই। আমি ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভ করি। এই টাকায় আমি আমার সংসার চালাচ্ছি কোনওরকমে।"

উপরারিয়া মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলার বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ৮ হাজার টাকা বেতনে এইচইসিতে যোগ দেন। একটি সরকারি কোম্পানি হওয়ায় তিনি আশা করেছিলেন যে তাঁর ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে। কিন্তু সবকিছু তাংর অনুকূলে আসেনি।

তিনি বলেন, "আমার দুটি মেয়ে আছে। দুজনেই স্কুলে যায়। এই বছর আমি এখনও তাদের স্কুলের ফি দিতে পারিনি। স্কুল থেকে প্রতিদিন নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এমনকী শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা জিজ্ঞাসা করেন এইচইসিতে কর্মরত অভিভাবকদের সন্তান কারা? এর ফলে আমার সন্তানরা অপমানিতও হচ্ছে। তারা মেয়েরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে। তাদের কাঁদতে দেখে আমার হৃদয় ভেঙে যায়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+